শ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ – নিষ্ঠাবান সাহাবীগণ

হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই:), খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস
৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

শুধু অডিও শুনুন

ডাউনলোড

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আমাদের প্রাণপ্রিয় ইমাম হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.) গতকাল ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯  টিলফোর্ডস্থ ইসলামাবাদের মসজিদে মুবারকে প্রদত্ত জুমুআর খুতবায় বদরের যুদ্ধে অংশ নেয়া সাহাবীদের স্মৃতিচারণ করেন। 

হুযূর (আই.) তাশাহহুদ, তাআ’ব্বুয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর বলেন, আজ আমি যে বদরী সাহাবীর স্মৃতিচারণ করব তার নাম হযরত হিলাল বিন উমাইয়া (রা.); তিনি আনসারদের অওস গোত্রের বনু ওয়াকেফ বংশের লোক ছিলেন। তার পিতার নাম ছিল উমাইয়া বিন আমের ও মায়ের নাম উনায়সা বিনতে হিদম, যিনি হযরত কুলসুম বিন হিদমের বোন ছিলেন। কুলসুম বিন হিদম (রা.) সেই সাহাবী যার বাড়িতে মহানবী (সা.) মদীনায় হিজরতের সময় কুবায় অবস্থান করেছিলেন। হযরত হিলালের দু’টি বিয়ের কথা জানা যায়; এক স্ত্রীর নাম ফুরাইয়া বিনতে মালেক বিন দুখশাম, আর অপর স্ত্রীর নাম মুলাইকা বিনতে আব্দুল্লাহ্। তার উভয় স্ত্রী-ই মহানবী (সা.)-এর হাতে বয়আত করে ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।

হযরত হিলাল বিন উমাইয়া (রা.) প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণকারীদের একজন ছিলেন এবং তিনি নিজ গোত্র বনু ওয়াকেফের পূজার মূর্তি ভেঙেছিলেন; মক্কা বিজয়ের দিন তার গোত্রের পতাকা তিনি-ই বহন করছিলেন। তিনি বদর, উহুদ ও এর পরবর্তী সকল যুদ্ধে মহানবী (সা.)-এর সহযোদ্ধা হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন, তবে তাবূকের যুদ্ধে অংশ নিতে পারেন নি। সীরাত ইবনে হিশামে তাকে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের তালিকাভুক্ত করা হয় নি, তবে সহীহ বুখারীর বর্ণনা থেকে তার বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রমাণ পাওয়া যায়। হযরত হিলাল বিন উমাইয়া (রা.)  সেই তিনজন আনসার সাহাবীর একজন ছিলেন, যারা কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তাবূকের যুদ্ধে অংশগ্রহণে অপারগ ছিলেন, বাকি দু’জন হলেন হযরত কা’ব বিন মালেক (রা.) ও মুরারা বিন রবী (রা.)। অন্যরা বিভিন্ন বাহানা দেখিয়ে মহানবী (সা.)-এর কাছ থেকে সহানুভূতি ও দোয়া আদায় করেন। কিন্তু এই তিনজন স্পষ্টভাবে স্বীকার করেন যে, আলস্যের কারণে তারা যুদ্ধে যেতে পারেন নি। এরপর মহানবী (সা.) তাদের শাস্তি দেন অর্থাৎ তাদের বয়কট করা হয়। পরবর্তীতে তাদের তিনজনের ব্যাপারে আল্লাহ্ স্বয়ং পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবার ১১৮ নাম্বার আয়াতটি অবতীর্ণ  করেন। যাতে বলা হয়েছে- ‘ওয়া আলাস্ সালাসাতিল্লাযিনা খুল্লিফু- হাত্তা ইযা যাকাত আলাইহিমুল আরযু বিমা রাহুবাত ওয়া যাকাত আলাইহিম আনফুসুহুম- ওয়া যান্নু আল্লা মালজাআ মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি- সুম্মা তাবা আলাইহিম লিইয়াতুবু- ইন্নাল্লাহা হুয়াত তাওয়্যাবুর রাহীম’ অর্থাৎ ‘আর পেছনে থেকে যাওয়া সেই তিনজনের প্রতিও (তিনি তওবা কবুল করে অনুগ্রহ করেছেন)। অবশেষে পৃথিবী যখন এর সমস্ত বিশালতা সত্তে¡ও তাদের জন্য সংকীর্ণ হয়ে গেল এবং তাদের কাছে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ল এবং তারা উপলদ্ধি করল যে, আল্লাহ্র ক্রোধ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাঁরই আশ্রয় ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নেই, তখন তিনি তাদের প্রতি সদয় হলেন যেন তারা তওবা করতে পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ বার বার তওবা গ্রহণকারী, বার বার কৃপাকারী।’

তাবূকের যুদ্ধ ৯ম হিজরিতে সংঘটিত হয়েছিল, হযরত কা’ব বিন মালেকের বরাতে সেই যুদ্ধে তাদের পিছনে রয়ে যাওয়ার ঘটনাটির একটি বিস্তারিত বিবরণ সহীহ্ বুখারীতে লিপিবদ্ধ হয়েছে। হুযুর (আই.) সেই দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করেন। হযরত কা’ব বিন মালিক তার পুত্রের কাছে বলেন, তাবূকের যুদ্ধ ছাড়া এমন কোন যুদ্ধ ছিল না, যাতে আমি মহানবী (সা.)-এর সাথে অংশগ্রহণ করি নি; অবশ্য বদরের যুদ্ধেও আমি যেতে পারি নি, কিন্তু তার জন্য রসূলুল্লাহ্ (সা.) কারও প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন নি। সাধারণতঃ মহানবী (সা.) কোন যুদ্ধের প্রস্তুতির বিষয়টি যুদ্ধকৌশলের খাতিরে কিছুটা গোপন রাখতেন; কিন্তু তাবূকের যুদ্ধ যেহেতু প্রচন্ড গরমের মধ্যে হওয়ার ছিল এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার ছিল ও শত্রæর সংখ্যাও অনেক বেশি ছিল- সেজন্য মহানবী (সা.) এ যুদ্ধের বিষয়ে খুব স্পষ্টভাবে বিস্তারিত বলে দিয়েছিলেন যেন সবাই যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারে। হযরত কা’ব (রা.) প্রতিদিনই যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়ার সংকল্প করতেন, কিন্তু উদাসীনতা ও  কিছুটা অলসতার কারণে শেষমেশ তার আর প্রস্তুতি নেয়া হয় নি। ইতোমধ্যে মহানবী (সা.) সাহাবীদের নিয়ে যাত্রা শুরু করেন এবং অনেকদূর এগিয়ে যান, ফলে কা’ব বিন মালেকের আর যাওয়া হয় নি। বেশকিছু মুনাফিকও সেই যুদ্ধে যায় নি। মহানবী (সা.) যাত্রাপথে কা’বের ব্যাপারে খোঁজও নেন। যুদ্ধাভিযান শেষে মহানবী (সা.) ফিরে এলে যুদ্ধে না যাওয়া মুনাফিকরা একে-একে মহানবী (সা.)-এর সমীপে এসে বিভিন্ন মিথ্যা অজুহাত উপস্থাপন করতে থাকে; তাদের সংখ্যা ৮০জনের অধিক ছিল। মহানবী (সা.) তাদের নতুন করে বয়আত নেন এবং তাদের জন্য আল্লাহ্র দরবারে ক্ষমা-প্রার্থনা করেন ও তাদের প্রকৃত বিষয় আল্লাহ্র কাছে সমর্পণ করেন। হযরত কা’ব মহানবী (সা.)-এর সামনে সত্য কথা বলেন যে, তার আসলে কোন যৌক্তিক অজুহাত ছিল না। মহানবী (সা.) বলেন, তার এই বর্ণনা সত্য, তিনি (সা.) তাকে চলে যেতে বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ্ তা’লা স্বয়ং তার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত প্রদান করেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন মুনাফিক কা’ব বিন মালেকের সাথে যায় এবং তাকে সত্য স্বীকারের জন্য ভর্ৎসনা করে আর বলে, তোমার জন্য রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর ইস্তিগফার করাটাই তোমার এই পাপ মোচনের জন্য যথেষ্ট ছিল।’ হযরত কা’ব (রা.) নিজেও ভাবেন যে, আবার রসূলুল্লাহ্ (সা.)-এর কাছে গিয়ে তার পূর্বের বক্তব্য ফিরিয়ে নিয়ে কোন মিথ্যা অজুহাত উপস্থাপন করবেন, কিন্তু তাদেরকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন যে মুরারা বিন রবী (রা.) আর হিলাল বিন উমাইয়া (রা.)ও তার মত সত্য কথা বলেছেন। কা’ব (রা.) ভাবেন ‘এরা দু’জন প্রকৃত পুণ্যবান মানুষ, তাছাড়া বদরেও অংশগ্রহণ করেছেন, তাই আমি এখন তাদের দলেই থাকব, কোন মিথ্যা অজুহাত দেখাব না’। ইতোমধ্যে মহানবী (সা.) মুসলমানদেরকে এই তিনজনের সাথে কথাবার্তা বলতে নিষেধ করে দেন, মুসলমানরা তাদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। হিলাল বিন উমাইয়া (রা.) তো মহানবী (সা.)-এর কাছ থেকে ফিরে বাড়িতে গিয়েই কান্নাকাটি শুরু করেন, ঘর থেকেও বের হন নি। কা’ব বিন মালেক (রা.) মসজিদে যেতেন, বাজারে যেতেন, কিন্তু কেউ-ই তার সাথে কথা বলত না। মনের দুঃখে একদিন তিনি লুকিয়ে দেয়াল টপকে তার চাচাতো ভাই হযরত আবু কাতাদার বাড়িতে যান ও আল্লাহ্র কসম দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি বিশ^াস কর না যে, আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলকে ভালোবাসি?’ বারংবার একথা জিজ্ঞেস করার প্রেক্ষিতে আবু কাতাদা শুধু এতটুকু বলেন, ‘আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল (সা.)-ই এটি ভালো জানেন।’ এভাবে হযরত কা’বের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তিনি দোয়া ও ইস্তিগফারে রত থাকেন। ইতোমধ্যে গাসসানের রাজা তার কাছে চিঠি পাঠায় যেন তিনি রসূলুল্লাহ্ (সা.)-কে পরিত্যাগ করে তার কাছে চলে যায়, সে তাকে সমাদর করবে। হযরত কা’ব (রা.) বুঝতে পারেন, এটি-ও তার ঈমানের আরেক পরীক্ষা; তিনি ঘৃণাভরে সেই চিঠি ছিঁড়ে ফেলেন। এভাবে চল্লিশ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর মহানবী (সা.) দূত মারফত খবর পাঠান যে, তারা তিনজন যেন তাদের স্ত্রীদের কাছ থেকেও পৃথক থাকেন। হযরত হিলাল (রা.)  যেহেতু কিছুটা বয়স্ক ছিলেন এবং তার দেখাশোনা করারও কেউ ছিল না, তাই তার স্ত্রী মহানবী (সা.)-এর কাছ থেকে তার সেবা করার অনুমতি নিয়ে নেন। প াশ দিন পার হলে আল্লাহ্ তা’লা তাদের তওবা ও অনুশোচনা কবুল করেন এবং কুরআনের আয়াত নাযিলের মাধ্যমে তাদের ক্ষমার বিষয়ে ঘোষণা দেন। মহানবী (সা.) ও সাহাবীরা তাকে অভিনন্দন জানান। যেহেতু সত্য বলার কারণে আল্লাহ্ তা’লা তাকে এভাবে দায়মুক্ত ও সম্মানিত করেন, সেজন্য তিনি জীবনে আর কখনো মিথ্যা বলেন নি। যারা মিথ্যা অজুহাত উপস্থাপন করে মহানবী (সা.)-কে দিয়ে ইস্তিগফার করিয়েছিল, তাদের মিথ্যার বিষয়েও আল্লাহ্ তা’লা কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ করেন এবং অত্যন্ত ঘৃণার সাথে তাদের উল্লেখ করা হয়। 

হযরত হিলাল বিন উমাইয়া (রা.) আমীর মুয়াবিয়ার শাসনকালে ইন্তেকাল করেন। প্রসঙ্গতঃ হুযূর তাবূকের যুদ্ধের বিষয়েও নাতিদীর্ঘ আলোচনা করেন যে, এই যুদ্ধাভিযানের প্রেক্ষাপট কী ছিল এবং সাহাবীরা প্রচন্ড কষ্টকর হওয়া সত্তে¡ও কতটা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং কীভাবে আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, শারীরিক কষ্ট স্বীকার করেছিলেন।

তাবূকের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সাহাবীদের আবেগ ও উচ্ছাস এত বেশি ছিল যে, পায়ে হেঁটে যেতেও তারা প্রস্তুত ছিলেন। এই অভিযানে সম্পদ প্রদানের জন্য কেউ বাড়ির উদ্দেশ্যে ছুটছিল আবার কেউ নিজের সামগ্রী একত্রিত করছিল আর নিজ মনিবের চরণে বেশি বেশি দান করার জন্য চেষ্টা করছিল। যাহোক, কেউ কিছু পাওয়া যায় কি-না সে জন্য নিজের বাড়িতে তন্নতন্ন করে খুঁজছিল যাতে সেও এর মাধ্যমে অভিযানে অংশ নিতে পারে। আর পদব্রজে যাওয়ার জন্যও মানুষ প্রস্তুত ছিল বরং অনেকের কাছে তো জুতা পর্যন্ত ছিল না, তারা মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বলেন, আমাদের পা একেবারে খালি, আমরা যদি পায়ে হেঁটে যাওয়ার জন্য শুধুমাত্র একজোড়া জুতাও পাই তাহলে আমরা পদব্রজে যেতেও প্রস্তুত আছি, নতুবা আমাদের পা ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যাবে ফলে আমরা (যুদ্ধক্ষেত্রে) পৌঁছতে পারবো না। আর সে সময় এমন অবস্থা ছিল যে, তাদেরকে জুতা সরবরাহ করাও সম্ভব ছিল না। যাহোক, প্রত্যেকে স্ব-স্ব স্থানে নিজের প্রাণের নযরানা পেশ করার বা প্রাণ বিসর্জন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। হযরত উমর (রা.)’র ধারণা ছিল, তার বাড়িতে অনেক সম্পদ রয়েছে, সুতরাং তিনি চিন্তা করেন যে, হযরত আবু বকর (রা.)’র চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার আজ সুযোগ আছে তাই তিনি তার অর্ধেক সম্পদ এনে মহানবী (সা.)-এর সমীপে রেখে দেন। মহানবী (সা.) বলেন, বাড়ির লোকদের জন্য কি রেখে এসেছ? হযরত উমর (রা.) বলেন, অর্ধেক সম্পদ নিয়ে এসেছি আর বাকি অর্ধেক রেখে এসেছি। হযরত আবু বকর (রা.) তার পুরো সম্পদ মহানবী (সা.)-এর সমীপে পেশ করেন। তিনি (সা.) নিজের পরিবারের লোকদের জন্য কি রেখে এসেছ? তিনি উত্তরে বলেন, বাড়ির লোকদের জন্য আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলকে রেখে এসেছি। হযরত উমর (রা.) তখন হযরত আবু বকর (রা.)’র প্রতি ঈর্ষা করে বলেন, আল্লাহ্র কসম! আমি হযরত আবু বকর (রা.)’র চেয়ে কোন ক্ষেত্রে কখনো অগ্রগামী হতে পারি না। 

হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)ও এই ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, “একদা আমাদের নবী করীম (সা.) অর্থের প্রয়োজনের কথা বলেন, তখন হযরত আবু বকর (রা.) তার ঘরের পুরো সম্পদ নিয়ে উপস্থিত হন। তিনি (সা.) জিজ্ঞেস করেন, আবু বকর (রা.) বাড়িতে কি রেখে এসেছ? তিনি উত্তরে বলেন, আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূলের নাম রেখে এসেছি। হযরত উমর (রা.) তাঁর সম্পদের অর্ধেক নিয়ে আসেন। মহানবী (সা.) জিজ্ঞেস করেন, উমর বাড়ীতে কি রেখে এসেছ? উত্তরে বলেন, অর্ধেক রেখে এসেছি। তখন মহানবী (সা.) বলেন, আবু বকর এবং উমরের কর্মকাÐে যে পার্থক্য রয়েছে সেই একই পার্থক্য রয়েছে তাদের পদমর্যাদায়।”  

হযরত আবু বকর (রা.) তাবুকের যুদ্ধের সময় মহানবী (সা.)-এর চরণে নিজের পুরো যে সম্পদ পেশ করেছিল তার মূল্যমান ছিল চার হাজার দেরহাম। তখন হযরত উসমান (রা.) অনেক উট ও ঘোড়া ছাড়াও নগদ অর্থ দান করেছিলেন। (তার) এই কুরবানীর কারণে মহানবী (সা.) মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, এই দানের পর এখন উসমানের কোন কাজের জন্য আর তাকে জবাবদিহি করতে হবে না। অপর একটি রেওয়ায়েত অনুসারে মহানবী (সা.) বলেছিলেন, আজকের দিনের পর উসমান যে কাজই করুক না কেন তা তাকে কষ্ট দিবে না। একথা তিনি (সা.) দু’বার বলেন।  

হুযূর (আই.) বলেন, হযরত হিলাল বিন উমাইয়া (রা.)’র স্মৃতিচারণের আরও কিছু বিষয় রয়েছে যা পরবর্তীতে বর্ণনা করা হবে, ইনশাআল্লাহ্।

খুতবার শেষদিকে হুযূর কেন্দ্রীয় ওয়াকফে নও বিভাগের পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা প্রদান করেন, তাদের একটি ওয়েবসাইট আজ উদ্বোধন করা হবে, এই ওয়েবসাইটে ওয়াক্ফে নও-এর আবেদন সম্পর্কে খোঁজ নেয়া থেকে শুরু করে ওয়াক্ফে নওদের বিভিন্ন সিলেবাস, দিক-নির্দেশনা, ক্যারিয়ার গাইডেন্স, হুযূরের সাথে ওয়াক্ফে নওদের বিভিন্ন প্রশ্নোত্তরের ভিডিও ক্লিপসহ ওয়াক্ফে নও সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাবলী ও নির্দেশনা পাওয়া যাবে। হুযূর ওয়াক্ফে নওদের ও তাদের পিতা-মাতাদের এই ওয়েবসাইট থেকে অবশ্যই উপকৃত হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।

খুতবাটি শেয়ার করুন

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন